গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে ‘হঠকারিতা’ বলায় নাহিদের ক্ষোভ

গেজেট প্রতিবেদন

গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে ‘হঠকারিতা’ হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও মামলা দেয়ার ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (ডিজেএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংবাদ সংগ্রহে যুক্ত সাংবাদিকেরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকট নিয়ে এনসিপির কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি বৈধ পদ্ধতি হচ্ছে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করা। তবে সেই আন্দোলনকে হঠকারিতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কালকে যখন আমি রাস্তায় নামব প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে, তখন বলা হবে আমি বাস ভাঙচুরের জন্য নামছি এবং আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে, মামলা দেয়া হবে। এই ন্যারেটিভ সরকারের জায়গা থেকে তৈরি করা হচ্ছে।

নাহিদ বলেন, বিরোধী দল সংসদের ভেতরে যেমন কথা বলবে, তেমনি সংসদের বাইরেও কথা বলবে—এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক আন্দোলনের স্বাভাবিক চরিত্র। অহিংসভাবে নিজের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ না থাকলে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ১৪ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সড়ক অবরোধ করে গণসমাবেশ করে এনসিপি। ওই কর্মসূচিতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে নাহিদ ইসলামসহ দলটির নেতারা হারিকেন প্রদর্শন করেন।

এরপর শনিবার মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন এখন নেই এবং এ ধরনের কর্মসূচিকে ‘হঠকারিতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করাকেও এখন হঠকারিতা বলা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে সবার ভাবা উচিত।

দেশে বর্তমানে যে মুক্ত পরিবেশ রয়েছে, সেটিকে ‘আপৎকালীন’ বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই পরিবেশ কত দিন থাকবে, তা কেউ জানে না। ধীরে ধীরে গণতন্ত্র ও কথা বলার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে।

এই সংকোচন ঠেকাতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক সাংবাদিককে গণমাধ্যম থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে এনসিপি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু গণমাধ্যমের বিরূপ আচরণের অভিযোগ তোলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্যের পর একটি গণমাধ্যম ৪৮ ঘণ্টায় তাকে নিয়ে ২০ থেকে ৩০টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ ধরনের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ছাত্রনেতাদের চরিত্রহননের চেষ্টা বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম থেকে করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেক সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু ঢাকায় নয়, দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সাংবাদিকেরা কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও বিবেকবোধ থেকে অনেক সাংবাদিক ভূমিকা পালন করেছেন। সাংবাদিকদের সক্রিয়তা না থাকলে আন্দোলন সফল করা সম্ভব হতো না।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, প্রকাশ্যে, পরোক্ষভাবে কিংবা গোপনে তারা যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। অভ্যুত্থানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আরও আগে বসা ও বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসা সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানান এনসিপি আহ্বায়ক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংবাদিকেরা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে সরকার বা কোনো রাজনৈতিক শক্তি যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রয়োজন রয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন